বিদায়ী বছরে ব্যাট ফুটে হার্ডওয়্যার খাত

২৮ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:০৬  
ইন্টারনেট এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবন শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই গুরুত্ববহ। কিন্তু এ জন্য চাই ইন্টারনেট চালনার প্রযুক্তি পণ্য। করোনার লক-ডাউনে সঙ্গত করানেই ইন্টারনেট সংযুক্ত প্রযুক্তি ডিভাইস ছিলো চাহিদার কেন্দ্র বিন্দুতে। হার্ডওয়্যার মার্কেট বন্ধ থাকলেও ক্রেতারা অনলাইনে পণ্য কিনেছেন। বছরজুড়ে ল্যাপটপ বিক্রি ছিল উল্লেখ্যযোগ্য। পাশাপাশি গেমিং ডিভাইস বিক্রি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য আবশ্যিক ডিভাইস হয়ে ওঠে ল্যাপটপ- মোবাইল। দেখা দেয় প্রযুক্তি পণ্যের সংকট। পণ্য সংকটের শীর্ষে ছিল ল্যাপটপ, মনিটর, মাদারবোর্ড, গ্রাফিকস কার্ড, রাউটার, মডেম, ওয়েবক্যাম, হেডফোন, গেমিং ডিভাইস। বাসা থেকে অফিস করা ও অনলাইনে ক্লাস হওয়ায় একটি পরিবারেই এখন একাধিক ল্যাপটপের চাহিদা দেখা দিয়েছে। ঘরে থেকেও বিভিন্ন হ্যাকাথনে অংশ নিয়ে করোনা মোকাবেলার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যেমন ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়েছে, একইসঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি পণ্যের বিক্রি। বাজার ঘাটতি নিয়েই নতুন বছরে প্রবেশ করছে দেশের হার্ডওয়্যার শিল্পখাত। মহামারি থেকে সুরক্ষা পেতে দেশীয় দুটি প্রতিষ্ঠান ভেন্টিলেটরসহ অন্যান্য মেডিক্যাল সরঞ্জাম তৈরি করেছে। অতিমারীতে পিসিতে ভিডিও কনফারেন্সের জন্য ভালো ক্যামেরা এবং স্পিকার ব্যবহার বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এসময় সামনে চলে আসে নিজেদের হার্ডওয়্যার তৈরির সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের সংযোজিত ল্যাপটপ ও মোবাইলের কাটতি বাড়ে। আস্থা তৈরি হতে শুরু করে দেশী ব্র্যান্ডে। ল্যাপটপ ও মোবাইলের পাশাপাশি ভেন্টিলেটর-গগলসের মতো মেডিক্যাল হাডওয়্যার তৈরিতে নিয়োজিত হয় ওয়ালটন। সরকারের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বিশ্বের খ্যাতনামা মেডিকেল যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিকের ‘পিবি ৫৬০’ মডেলের স্পেফিকেশনে ‘ডব্লিউপিবি ৫৬০ ভেন্টিলেটর’ তৈরি করে এই দেশীয় ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি। এ বছরেই নরসিংদীর কারখানা ফ্লাগশিপ স্মার্টফোন সংযোজন শুরু করে স্যামসাং। মোবাইলের মাদারবোর্ড উৎপাদন করে টেকনো ব্র্যান্ডের মুঠোফোন বাজারজাতকারী ট্রানশান। মুঠোফোনের যন্ত্রাংশ, চার্জার ও হেডফোন উৎপাদন শুরু করে সিস্ফনি বাংলাদেশ। এইভাবে অপো, ভিভো এবং ফাইভ স্টারসহ মোট মোবাইল উৎপাদন কারখানা উন্নীত হয় ১১টিতে। যার ফলে দেশের তৈরি স্মার্টফোন ও ফিচার ফোন এখন ৬০ শতাংশ চাহিদা মেটাচ্ছে। অতিমারীতেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফোন উৎপাদন চলমান রেখেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্ভাবনার কথা আমলে নিয়ে আইসিটি ও কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও এক্সেসরিজ কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে প্রাইম ব্যাংক। বিসিএস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাইম ব্যাংক জামানতবিহীন ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়া শুরু করে। বছরের শেষ সময় এসে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এর সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (উইটসা) এর এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবন-মানের উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে 'গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২০' পেয়েছে বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ‘দেশে প্রযুক্তি পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। দিন দিন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এটা একদিক দিয়ে ভালো। দীর্ঘদিন পরে বাজারমুখী হয়েছেন ক্রেতারা।’